ভারতবর্ষ একটি গণতান্ত্রিক দেশ, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অন্যতম মৌলিক অধিকার হলো ভোটাধিকার। কিন্তু বিগত কয়েকটি নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিশেষ করে ত্রিপুরায় ভোট ডাকাতি, ভুয়ো ভোট, বুথ দখল এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার উপর শাসক দলের সরাসরি প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনের মতো একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া যখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তখন সাধারণ মানুষের আস্থা ভেঙে পড়ে এবং গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সম্প্রতি এই প্রেক্ষাপটে ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস এক প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করে আগরতলা শহরে। “ভোট আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার” – এই স্লোগানকে সামনে রেখে হাজারো কংগ্রেস কর্মী ও সাধারণ মানুষ মিছিলে অংশ নেন। তাঁদের দাবি ছিল স্পষ্ট – “ভোট চোরদের গদি ছাড়তেই হবে।”
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
মিছিলে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ অভিযোগ তোলেন যে, দেশের নির্বাচন কমিশন আজ তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। বিজেপি সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কমিশন ভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াকে প্রহসনে পরিণত করেছে। যেখানে নির্বাচন কমিশনকে সংবিধানের রক্ষক হিসেবে কাজ করার কথা, সেখানে তার ভূমিকা এখন সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ।
নেতাদের মতে, ভোটের দিন ভোটাররা বুথে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন না। বিভিন্ন জায়গায় ভুয়ো ভোট, বুথ ক্যাপচারিং এবং বিরোধী দলের এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার ফলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হচ্ছে।
কংগ্রেসের বার্তা
প্রতিবাদ মিছিলে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা বলেন –
“আমরা বিশ্বাস করি জনগণই গণতন্ত্রের আসল শক্তি। তাঁদের ভোটাধিকারকে যদি এভাবে কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে গণতন্ত্র নামক প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়বে। বিজেপি সরকার যতই ভয় দেখাক, গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে দমন করা যাবে না।”
তাঁরা আরও দাবি করেন যে, আগামীতে যদি নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ না করে, তাহলে গণআন্দোলনের মাধ্যমে জনগণই এর জবাব দেবে।
প্রতিবাদ সভা
মিছিল শেষে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে বক্তারা ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। বক্তৃতায় বলা হয় – “যদি জনগণের ভোটাধিকার খর্ব করা হয়, তবে জনগণই রাস্তায় নেমে তার জবাব দেবে।”
সভায় সাধারণ মানুষ ও কংগ্রেস কর্মীরা একবাক্যে দাবি তোলেন যে, গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে ভোট চুরি রুখতে হবে এবং ভোট চোরদের শাসন থেকে উৎখাত করতেই হবে।
গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রাম
আজকের এই আন্দোলন প্রমাণ করে, ত্রিপুরার মানুষ ভোটাধিকার নিয়ে আর কোনো প্রহসন মেনে নিতে রাজি নয়। গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে প্রতিটি ভোটারকে তার নিজের ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
“ভোট আমাদের অধিকার, ভোট চোরদের গদি ছাড়তেই হবে”— এই স্লোগান আজ শুধু ত্রিপুরা নয়, গোটা দেশের মানুষের মধ্যে গণআন্দোলনের ডাক হিসেবে ছড়িয়ে পড়ছে।
উপসংহার
ভোট শুধুমাত্র একটি সংখ্যা নয়, এটি একটি নাগরিকের মর্যাদা, অধিকার এবং গণতন্ত্রের শক্তির প্রতীক। যদি এই অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়, তবে গণতন্ত্রের ভিত্তি ধসে পড়বে। তাই প্রতিটি সৎ নাগরিকের দায়িত্ব হলো ভোট চুরি, দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।
ত্রিপুরায় কংগ্রেসের এই আন্দোলন হয়তো আগামী দিনে গণতন্ত্র রক্ষার বৃহত্তর লড়াইয়ের অঙ্গ হয়ে উঠবে।
📢 স্লোগান ছিল:


