শিক্ষক দিবস মানেই শুধু ফুল-চকলেট আর শুভেচ্ছা নয়, বরং একজন প্রকৃত শিক্ষকের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার দিন। আর সেই বিশেষ দিনে গোটা দেশের নজর কেড়েছেন ত্রিপুরার গোমতী জেলার শিক্ষিকা বিদিশা মজুমদার। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে জাতীয় পুরস্কার গ্রহণ করে তিনি এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছেন।

জাতীয় মঞ্চে ত্রিপুরার নাম উজ্জ্বল
৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫। নয়া দিল্লির ঐতিহ্যবাহী বিজ্ঞান ভবন যেন আলোয় ভরে উঠেছিল। ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নির্বাচিত মাত্র ৪৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে সম্মান জানানো হয়। তাঁদের প্রত্যেককে দেওয়া হয় রৌপ্য পদক, সম্মাননাপত্র এবং ৫০ হাজার টাকার আর্থিক পুরস্কার।
এই বিশেষ মঞ্চেই ত্রিপুরার শিক্ষিকা বিদিশা মজুমদার রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করে রাজ্যের নাম জাতীয় মানচিত্রে আরও উজ্জ্বল করলেন।
বিদিশার যাত্রা
উদয়পুর হরিয়ানন্দ ইংলিশ মিডিয়ামের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষিকা বিদিশা দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রছাত্রীদের শুধু পাঠ্যবই নয়, জীবনের পাঠও শিখিয়ে আসছেন। নতুন নতুন শিক্ষণ-পদ্ধতি, বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ জাগিয়ে তোলা আর প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রতি সমান মনোযোগ—এই তিন জিনিসই তাঁকে অনন্য করেছে।
শিক্ষার্থীদের অনেকে বলেন, বিদিশা শুধু একজন শিক্ষক নন, তিনি এক পথপ্রদর্শক। গ্রামীণ পরিবেশের সীমাবদ্ধতার মাঝেও তিনি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্লাসকে প্রাণবন্ত করে তুলেছেন। তাঁর এই প্রচেষ্টাই তাঁকে জাতীয় স্তরের স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।

গর্বের মুহূর্ত
পুরস্কারপ্রাপ্তদের জন্য রাজধানীতে বিশেষ আতিথেয়তার ব্যবস্থা ছিল। বিদিশা মজুমদার তাঁর পিতা-মাতাকে নিয়ে সেই ঐতিহাসিক দিনে উপস্থিত হন। রাষ্ট্রপতির হাত থেকে সম্মান গ্রহণ করার মুহূর্তে তাঁর চোখে-মুখে ছিল এক অদ্ভুত উজ্জ্বলতা, যা শুধু তাঁর নয়, বরং ত্রিপুরার প্রত্যেক মানুষের গর্বের প্রতিচ্ছবি।
ত্রিপুরার শিক্ষাঙ্গনের অনুপ্রেরণা
জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার অর্জন করা মানে শুধু একটি পদক পাওয়া নয়, বরং গোটা সমাজকে বার্তা দেওয়া—শিক্ষকই পারেন আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়তে। বিদিশার সাফল্য তাই ত্রিপুরার শিক্ষকদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। তাঁর যাত্রা দেখিয়ে দিল, নিষ্ঠা আর অধ্যবসায় থাকলে ছোট রাজ্য থেকেও বিশ্বমঞ্চে নিজের ছাপ ফেলা যায়।
সমাপ্তি
শিক্ষক দিবসে বিদিশা মজুমদারের এই স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে এক “প্রাউড মোমেন্ট”। তিনি শুধু একজন শিক্ষিকা নন, ত্রিপুরার গর্ব। তাঁর সাফল্য আজকের ছাত্রছাত্রীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার আলো, যা আগামী দিনের শিক্ষা-অভিযাত্রাকে আরও আলোকিত করবে।
Also Read:

