অধ্যায় ১১ – বিশ্বরূপ দর্শন যোগ
এই অধ্যায়ে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে তাঁর বিশ্বরূপ (কসমিক ফর্ম) দর্শন করান। এটি গীতার অন্যতম মহিমান্বিত অধ্যায়।
পূর্ণ কাহিনি:
অর্জুনের অনুরোধ:
অর্জুন কৃষ্ণকে বললেন—
“হে কৃষ্ণ, আমি আপনার মহিমা শুনেছি। এখন আমি আপনার সেই বিশ্বব্যাপী রূপ দর্শন করতে চাই।”
কৃষ্ণের বিশ্বরূপ প্রকাশ:
কৃষ্ণ তাঁর দিব্য চক্ষু প্রদান করলেন, এবং তখন অর্জুন দেখতে পেলেন—
- অগণিত মুখ, হাত, চোখ এবং অলৌকিক রূপ।
- দেব-দেবী, ঋষি, অসংখ্য সত্তা তাঁর দেহে অবস্থান করছে।
- সূর্যের মতো দীপ্তিমান অসীম জ্যোতি।
- সময়রূপে সমস্ত জীবকে গ্রাস করছেন তিনি।
অর্জুনের ভয় ও বিস্ময়:
এই রূপ দেখে অর্জুন ভীত ও বিস্মিত হলেন। তিনি বললেন—
“হে মহাশক্তিমান, আপনার এই অপরিমেয় রূপ দেখে আমি কাঁপছি। আপনি অগণিত মুখে সবাইকে গ্রাস করছেন। দয়া করে আমাকে আপনার শান্ত রূপ দেখান।”
কৃষ্ণের ঘোষণা:
কৃষ্ণ বললেন—
- আমি সময়, যা সবকিছু গ্রাস করে।
- যুদ্ধক্ষেত্রে যারা আছে, তাদের মৃত্যু অবধারিত। তুমি শুধু আমার ইচ্ছার যন্ত্রমাত্র।
- যুদ্ধ জিতবে তুমি, কারণ আমি ইতিমধ্যেই শত্রুদের বিনাশ করেছি।”
অর্জুনের প্রণাম:
অর্জুন কৃষ্ণকে বারবার প্রণাম করলেন ও ভয়ে বললেন—
“আপনি পরম ব্রহ্ম, অনাদি দেব, সৃষ্টির পালনকর্তা। আমি আপনার কাছে শরণাপন্ন।”
কৃষ্ণের শান্ত রূপ:
শেষে কৃষ্ণ তাঁর মানবীয় রূপে ফিরে আসেন এবং অর্জুনকে আশ্বস্ত করেন—
“হে অর্জুন, ভয় করো না। ভক্তির মাধ্যমে আমার এই বিশ্বরূপ দর্শন করা যায়।”

