অধ্যায় ১৩ – ক্ষেত্র ক্ষেত্রজ্ঞ বিভাগ যোগ
এই অধ্যায়ে শ্রীকৃষ্ণ ‘ক্ষেত্র’ (শরীর ও জড় জগৎ) এবং ‘ক্ষেত্রজ্ঞ’ (আত্মা বা চেতন) – এই দুইয়ের পার্থক্য ব্যাখ্যা করেছেন।
পূর্ণ কাহিনি:
অর্জুনের প্রশ্ন:
অর্জুন কৃষ্ণকে জিজ্ঞেস করলেন—
“হে কৃষ্ণ, ক্ষেত্র ও ক্ষেত্রজ্ঞ কী? জ্ঞান কী? জ্ঞেয় কী?”
কৃষ্ণের উত্তর:
কৃষ্ণ বললেন—
- ক্ষেত্র হলো দেহ, মন, ইন্দ্রিয় ও জড় জগৎ।
- ক্ষেত্রজ্ঞ হলো আত্মা, যিনি এই দেহে অবস্থান করছেন।
- জ্ঞান হলো বিনয়, অহিংসা, ধৈর্য, ভক্তি ইত্যাদি গুণ।
- জ্ঞেয় হলো পরম ব্রহ্ম—যিনি সর্বব্যাপী, অনাদি, অবিনশ্বর।
পরম সত্তার ব্যাখ্যা:
কৃষ্ণ আরও বললেন—
- ব্রহ্ম সর্বত্র বিরাজমান।
- তিনি ইন্দ্রিয়গোচর নন, কিন্তু সবকিছুর ভিতরে ও বাইরে বিদ্যমান।
- তিনি অপরিমেয় এবং জ্ঞানীরা তাঁকেই উপলব্ধি করেন।
জ্ঞান ও ভক্তির পথ:
কৃষ্ণ শিক্ষা দিলেন—
- যে ভক্ত ক্ষেত্র ও ক্ষেত্রজ্ঞের পার্থক্য বুঝতে পারে, সে সত্য জ্ঞানী।
- যিনি ব্রহ্মে একাত্ম হন, তিনি জন্মমৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্তি পান।

