অধ্যায় ১৮ – মোক্ষ সন্ন্যাস যোগ
এটি গীতার শেষ ও সবচেয়ে বিস্তৃত অধ্যায়, যেখানে শ্রীকৃষ্ণ পুরো শিক্ষার সারসংক্ষেপ দেন। এই অধ্যায়ের মূল বিষয় হল সন্ন্যাস (ত্যাগ) ও মোক্ষ (মুক্তি)।
পূর্ণ কাহিনি:
অর্জুনের প্রশ্ন:
অর্জুন কৃষ্ণকে জিজ্ঞেস করলেন—
“হে কৃষ্ণ, আমি জানতে চাই সন্ন্যাস ও ত্যাগের মধ্যে পার্থক্য কী?”
কৃষ্ণের উত্তর:
কৃষ্ণ বললেন—
- সন্ন্যাস: কর্মফল ত্যাগ করা।
- ত্যাগ: ইচ্ছা ও আসক্তি ত্যাগ করে কর্তব্য পালন করা।
কর্মের বিভাজন:
কৃষ্ণ কর্মকে তিন ভাগে বিভক্ত করলেন—
- সাত্ত্বিক কর্ম: কর্তব্যবোধ থেকে করা।
- রাজসিক কর্ম: স্বার্থ ও লোভ থেকে করা।
- তামসিক কর্ম: অজ্ঞতা ও অলসতা থেকে করা।
জ্ঞান, কর্ম ও কর্তা:
যে কর্মফল কামনা না করে জ্ঞানসহকারে কর্তব্য পালন করে, সে সত্যিকার যোগী।
বর্ণধর্ম:
মানুষের স্বভাব অনুযায়ী চার বর্ণের (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র) কর্তব্য আলাদা করা হয়েছে।
পরম উপদেশ:
কৃষ্ণ অর্জুনকে শেষবারের মতো বললেন—
“সব ধর্ম ও কর্তব্য আমাকে উৎসর্গ করে দাও। শুধু আমার কাছে আত্মসমর্পণ করো। আমি তোমাকে সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি দেব। ভয় পেয়ো না।”
অর্জুনের সিদ্ধান্ত:
অর্জুন বললেন—
“হে কৃষ্ণ, এখন আমার সন্দেহ দূর হয়েছে। আপনার করুণা ও উপদেশে আমি দৃঢ় সংকল্প নিয়ে যুদ্ধ করব।”
সমাপ্তি:
এভাবেই শ্রীকৃষ্ণের উপদেশ ও অর্জুনের দৃঢ় প্রতিজ্ঞার মাধ্যমে মহাভারতের মূল যুদ্ধ শুরু হয় এবং গীতা শেষ হয়।

