অধ্যায় ২ – সাংখ্য যোগ
অর্জুন যুদ্ধ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর শ্রীকৃষ্ণ ধৈর্য সহকারে তাকে উপদেশ দিতে শুরু করেন। এই অধ্যায়টি গীতার মূল ভিত্তি, যেখানে জীবনের সত্য, কর্তব্য এবং যোগের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
পূর্ণ কাহিনি:
অর্জুনের বিভ্রান্তি:
অর্জুন হতাশ হয়ে কৃষ্ণকে বললেন—
“হে কৃষ্ণ, আমি যুদ্ধ করব না। আমার মন বিভ্রান্ত। তুমি আমার গুরু, তাই আমাকে সঠিক পথ দেখাও।”
কৃষ্ণের উপদেশ:
কৃষ্ণ প্রথমে অর্জুনকে তিরস্কার করে বলেন যে, এই দুর্বলতা একজন ক্ষত্রিয়ের জন্য লজ্জার। তারপর তিনি আত্মার অমরত্বের শিক্ষা দেন—
- আত্মা জন্ম নেয় না, মরে না।
- শরীর নশ্বর, কিন্তু আত্মা চিরন্তন।
- মৃত্যুর পর আত্মা নতুন দেহ ধারণ করে।
কর্তব্য ও ধর্ম:
কৃষ্ণ অর্জুনকে বলেন—
“নিজের কর্তব্য থেকে সরে যাওয়া মহাপাপ। ক্ষত্রিয়ের জন্য ধর্ম হলো ন্যায়যুদ্ধে অংশ নেওয়া।”
কর্মযোগ শিক্ষা:
কৃষ্ণ কর্মযোগের মর্ম ব্যাখ্যা করেন—
- ফলের আসক্তি ত্যাগ করে কর্তব্য পালন করতে হবে।
- কর্ম করাই প্রধান, ফলের প্রতি মোহ নয়।
- যোগী সেই, যে সমদর্শী—সাফল্য বা ব্যর্থতায় সমান থাকে।
ধ্যান ও স্থির জ্ঞান:
কৃষ্ণ যোগীর লক্ষণ ব্যাখ্যা করেন—
- যার মন অবিচল, ইন্দ্রিয় নিয়ন্ত্রিত।
- যিনি সুখ-দুঃখে সমান, আসক্তিহীন।
- যিনি আত্মাকে জানেন এবং ব্রহ্মের সাথে একাত্ম হন।
অধ্যায়ের উপসংহার:
এইভাবে কৃষ্ণ অর্জুনকে সাংখ্য যোগের শিক্ষা দেন। তিনি বোঝান যে আত্মা অবিনশ্বর, কর্তব্য পরিত্যাগ করা উচিত নয় এবং যোগীর জীবন হলো আসক্তিহীন কর্তব্যপালনের জীবন।

