Bhagavad Gita Chapter 3 – কর্ম যোগ (Karma Yoga)

অধ্যায় ৩ – কর্ম যোগ

এই অধ্যায়ে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে ‘কর্মযোগ’ বা নিঃস্বার্থ কর্মের শিক্ষা দেন। তিনি বোঝান যে, শুধু জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না, জীবনে কর্তব্যকর্ম পালন অপরিহার্য।

পূর্ণ কাহিনি:

অর্জুনের প্রশ্ন:

অর্জুন কৃষ্ণকে জিজ্ঞাসা করলেন—

“হে কৃষ্ণ, যদি জ্ঞানই শ্রেষ্ঠ হয়, তবে তুমি আমাকে কর্মে নিযুক্ত করছো কেন?”

কৃষ্ণের উত্তর:

কৃষ্ণ ব্যাখ্যা করলেন—

  • মানুষ কর্ম ছাড়া এক মুহূর্তও থাকতে পারে না।
  • কর্ম এড়ানো নয়, বরং সঠিকভাবে কর্তব্য পালনই মুক্তির পথ।
  • যিনি নিঃস্বার্থভাবে, ফলের আসক্তি ত্যাগ করে কর্ম করেন, তিনিই যোগী।

যজ্ঞ ও কর্তব্য:

কৃষ্ণ বলেন যে, সৃষ্টিকর্তা জগৎকে যজ্ঞের মাধ্যমে স্থাপন করেছেন।

  • যজ্ঞ মানে নিঃস্বার্থভাবে অন্যের কল্যাণে কাজ করা।
  • যিনি যজ্ঞবুদ্ধি ছাড়া ভোগের জন্য কর্ম করেন, তিনি পাপের ভাগী।
  • কর্মফল ভগবানের উদ্দেশ্যে অর্পণ করলে মন পবিত্র হয়।

মহান পুরুষদের আদর্শ:

কৃষ্ণ বলেন—

“মহান পুরুষরা যেমন কাজ করেন, সাধারণ মানুষ তেমনই অনুসরণ করে। তাই কর্তব্য থেকে সরে যাওয়া উচিত নয়।”

কর্ম ও গুণ:

সব কাজ প্রকৃতির তিনটি গুণ দ্বারা সম্পন্ন হয়—সত্ত্ব, রজঃ, তমঃ।

  • অহংকারে ভেবে বসা উচিত নয় যে ‘আমি-ই সব করছি’।
  • আসলে প্রকৃতির গুণই আমাদের দ্বারা কর্ম করায়।

অধ্যায়ের উপসংহার:

কৃষ্ণ অর্জুনকে উপদেশ দিলেন—

  • ফলত্যাগী হয়ে কর্তব্যকর্মে নিযুক্ত হও।
  • কর্মযোগের মাধ্যমে মানুষ মুক্তি লাভ করে।
  • অলসতা বা কর্মত্যাগ নয়, বরং নিঃস্বার্থ কর্তব্যই হলো প্রকৃত যোগ।