অধ্যায় ৪ – জ্ঞান যোগ
এই অধ্যায়ে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে ‘জ্ঞান যোগ’ বা প্রকৃত জ্ঞানের গুরুত্ব বোঝান। তিনি বলেন, কেবল অন্ধভাবে কর্ম নয়, সঠিক জ্ঞানসহ কর্ম করাই শ্রেষ্ঠ।
পূর্ণ কাহিনি:
প্রাচীন যোগশিক্ষা:
কৃষ্ণ অর্জুনকে জানান—
“আমি সূর্যদেবকে এই যোগ শিখিয়েছিলাম, তিনি মনুকে, মনু ইক্ষ্বাকুকে। এভাবেই প্রাচীন রাজর্ষিরা জ্ঞানপ্রাপ্ত হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তা হারিয়ে গেছে।”
অর্জুনের প্রশ্ন:
অর্জুন আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করেন—
“হে কৃষ্ণ, আপনি তো আমার সমসাময়িক। তাহলে কিভাবে বহু পূর্বে সূর্যদেবকে এই যোগ শিখালেন?”
কৃষ্ণের উত্তর:
কৃষ্ণ ব্যাখ্যা করলেন—
- আমার জন্ম আসল জন্ম নয়, আমি অবতার রূপে যুগে যুগে আসি।
- ধর্ম প্রতিষ্ঠা আর অধর্ম নাশ করার জন্য আমি জন্মগ্রহণ করি।
- যিনি ভক্তিভরে আমাকে জানেন, তিনি জন্ম-মৃত্যুর বন্ধন ছাড়িয়ে মুক্তি পান।
জ্ঞান ও কর্মের মিলন:
কৃষ্ণ বলেন—
- শুধু কর্ম নয়, কর্মের সঙ্গে জ্ঞানও যুক্ত হতে হবে।
- যজ্ঞস্বরূপ কর্মই হলো শ্রেষ্ঠ।
- যিনি জ্ঞানী, তিনিই প্রকৃত মুক্ত।
গুরু থেকে শিক্ষা:
কৃষ্ণ উপদেশ দিলেন—
“সত্যজ্ঞানের জন্য গুরুসেবন করো। বিনয়, প্রশ্ন ও সেবার মাধ্যমে জ্ঞানীরা তোমাকে শিক্ষা দেবেন।”
অধ্যায়ের উপসংহার:
অর্জুনকে কৃষ্ণ বলেন—
- অজ্ঞতা দূর করতে জ্ঞানই একমাত্র অস্ত্র।
- সন্দেহযুক্ত ব্যক্তি শান্তি পায় না।
- তুমি অস্ত্র তুলে নাও, কর্মে স্থিত হও। জ্ঞান তোমাকে মুক্ত করবে।”

