অধ্যায় ৫ – কর্ম বৈরাগ্য যোগ
এই অধ্যায়ে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে কর্ম ও সন্ন্যাসের প্রকৃত অর্থ ব্যাখ্যা করেন। অর্জুন জানতে চান কোন পথ শ্রেষ্ঠ—কর্মযোগ নাকি সন্ন্যাস? কৃষ্ণ উত্তর দেন যে দুটোই উত্তম, কিন্তু কর্মযোগ সহজ ও শ্রেষ্ঠ, কারণ তা সক্রিয়ভাবে সমাজের মঙ্গল করে এবং ভক্তকে মুক্তির পথে নিয়ে যায়।
পূর্ণ কাহিনি:
অর্জুনের প্রশ্ন:
অর্জুন কৃষ্ণকে জিজ্ঞেস করলেন—
“হে কৃষ্ণ, আপনি কখনো সন্ন্যাস, আবার কখনো কর্মযোগের প্রশংসা করেন। দয়া করে আমাকে পরিষ্কারভাবে বলুন, কোনটা শ্রেষ্ঠ?”
কৃষ্ণের উত্তর:
কৃষ্ণ বললেন—
- সন্ন্যাস ও কর্মযোগ দুটোই মুক্তি দেয়।
- তবে কর্মযোগ সন্ন্যাসের চেয়ে সহজ, কারণ কর্মের মধ্য দিয়েই জ্ঞান লাভ হয়।
- যিনি আসক্তি ছাড়া কর্ম করেন, তিনিই প্রকৃত সন্ন্যাসী।
সমান দৃষ্টিভঙ্গি:
কৃষ্ণ শেখালেন—
- জ্ঞানী ব্যক্তি সব প্রাণীকেই সমান চোখে দেখেন—ব্রাহ্মণ, গরু, কুকুর বা চণ্ডাল।
- এই সমদৃষ্টি ভক্তিকে স্থির ও শান্ত করে।
আত্মসংযম:
যিনি ইন্দ্রিয়জ জয় করেছেন, সুখ-দুঃখে সমান, তিনি মুক্ত। তার জন্য সংসারবদ্ধ জীবন আর দুঃখের কারণ হয় না।
অধ্যায়ের উপসংহার:
কৃষ্ণ উপদেশ দিলেন—
- যিনি আসক্তি ছাড়া কর্ম করেন, তিনিই শান্তি পান।
- সত্যিকারের ভক্ত সব কিছু ঈশ্বরকে উৎসর্গ করেন।
- এই পথই মুক্তি ও আনন্দের পথ।

