অধ্যায় ৮ – অক্ষর ব্রহ্ম যোগ
এই অধ্যায়ে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে মৃত্যুকালীন সময়ে ঈশ্বরস্মরণের মাহাত্ম্য এবং আত্মার অক্ষয় স্বরূপ ব্যাখ্যা করেন। এই জ্ঞান ভক্তকে মোক্ষলাভে সাহায্য করে।
পূর্ণ কাহিনি:
অর্জুনের প্রশ্ন:
অর্জুন কৃষ্ণকে জিজ্ঞেস করলেন—
“হে কৃষ্ণ, ব্রহ্ম কী? আত্মা কী? কর্ম কী? মৃত্যুকালে ঈশ্বরস্মরণের ফল কী?”
কৃষ্ণের ব্যাখ্যা:
কৃষ্ণ উত্তর দিলেন—
- অক্ষর ব্রহ্ম হলো অবিনশ্বর সত্য।
- ব্যক্তিগত আত্মা হলো জীবাত্মা, যা শরীর ত্যাগ করেও অক্ষয় থাকে।
- কর্ম হলো সেই শক্তি, যা জীবকে সংসারে আবদ্ধ রাখে।
মৃত্যুকালে ঈশ্বরস্মরণ:
কৃষ্ণ বলেন—
“যে মৃত্যুকালে আমাকেই স্মরণ করে দেহ ত্যাগ করে, সে অবশ্যই আমাকে লাভ করে।”
অন্য কিছুর চিন্তা করলে তার অনুরূপ গতি হয়। তাই জীবনের অন্তিম মুহূর্তে ভক্তিভরে কৃষ্ণস্মরণই মোক্ষের পথ।
যোগীর অনুশীলন:
কৃষ্ণ যোগীদের জন্য বিশেষ উপদেশ দিলেন—
- ওঁ ধ্বনি ও ঈশ্বরস্মরণ করে দেহত্যাগ করলে ভক্ত মুক্তি পায়।
- যোগী মৃত্যুকালে প্রানকে ভ্রূমধ্য দিয়ে উত্তোলন করে ঈশ্বরের সঙ্গে মিলিত হন।
কালচক্র ও মুক্তি:
কৃষ্ণ বললেন—
- যারা সূর্যের উত্তরায়ণ কালে দেহত্যাগ করেন, তারা মুক্তি লাভ করেন।
- দক্ষিণায়ণ কালে যারা দেহত্যাগ করেন, তারা পুনর্জন্মে আবদ্ধ হন।
অধ্যায়ের উপসংহার:
কৃষ্ণ উপদেশ দিলেন—
- সৎ ভক্ত সর্বদা ঈশ্বরকে স্মরণ করে।
- এভাবেই ভক্ত জন্ম-মৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্তি পেয়ে পরম গতি লাভ করে।

